নাজমুল হাসান নিরব,ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদতপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ডিবি(গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয় দিয়ে সায়েদুল হক (২৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের
ঘটনা ঘটেছে।এবং অপহরণের পর ইনজেকশন দিয়ে বাকশক্তি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অপহৃত সায়েদুল হক বোয়ালমারীর উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় গতকাল সোমবার (১০ অক্টোবর) দিনগত রাত ১১টার দিকে বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ভগ্নিপতি মুহাম্মাদ ওয়াজেদ আলী খান।
পরে মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ওই ব্যবসায়ীর সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ বাড়িতে হাজির হন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
এর আগে গতকাল ১০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পৌর সদরের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে তিনি অপহৃত হন। সোমবার রাতেই এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তার পরিবার।
জিডিতে বলা হয়, ১০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে বোয়ালমারী পৌর সদরের অগ্রণী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে ব্যাংকের সামনেই তাকে তুলে নেওয়া হয়।
সায়েদুল হকের ভাই স্থানীয় সাংবাদিক এসএম রহমতুল্লাহ জানান, ব্যাংকের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে আমার ভাইকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। সারাদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর সোমবার দিনগত রাত ১১টার দিকে অপহরণকারী সাইয়েদুল হকের ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে আমাদের ছোট বোন শামিমা জামানের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একটি ম্যাসেজ পাঠায়। সেখানে তারা জানান, তাকে আমরা ডিবি পরিচয়ে তুলে এনেছি। আমাদের সঙ্গে তার ঝামেলা আছে। তাকে শিক্ষা দেব। কারণ ও (সায়েদুল) আমাদের সঙ্গে অনেক বেয়াদবি করেছে।
ওই ম্যাসেজে অপহরণকারীরা আরও বলে, মুক্তিপণের টাকার জন্য বা মুক্তিপণের জন্য না। ওকে মারবো ওর সঙ্গে আমাদের পুরাতন হিসাব বাকি আছে। আমাদের একজনকে পুলিশের কাছে ধরায় দিছে। ওর গলায় ১০টা ইনজেকশন দেব যাতে আর কোনো দিন কথা বলতে না পারে। ইনজেকশন দেওয়া হলে ছেড়ে দেব যেকোনো জায়গায়।
তিনি আরও বলেন, এর ঘণ্টা পর রাত ১২টা ২মিনিটে আরেকটি ম্যাসেজ পাঠিয়ে তারা জানায়, কাজ শেষ। ছেড়ে দিচ্ছি। সবকিছুই ঠিক থাকবে। কিন্তু কথা বলতে পারবে না। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে অসুস্থাবস্থায় উপজেলার তেলজুড়ী এলাকা থেকে অটোভ্যান যোগে বাড়িতে পৌঁছায়। সে এখন মুখে কোনো কথা বলতে পারছেন না। হাত দিয়ে কাগজে লিখে জানান- ‘কোনো ওষুধ শরীরে পুশ করলে বিষ হয়ে যাবে। ’
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাকিলা জামান বলেন, সায়েদুল মুখে কিছুই বলতে পারছেন না। কাগজে লিখে জানাচ্ছে- কোনো ওষুধ শরীরে দিলে বিষ হয়ে যাবে। হাত দিয়ে ইশারায় জানান, গলায় ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওই জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্কাস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জিডি করার পর ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত শনাক্ত ও অবস্থান জানার চেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীকালে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে হাজির হন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
Leave a Reply